রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক মো. হৃদয় ব্যাপারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ের পর জহিরুল ইসলাম বলেন, "রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। এই রায়ের মাধ্যমে নিহত নারীর পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।"

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, "বিশ্বস্ত কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও আসামি (হৃদয়) ঠান্ডা মাথায় এক নিরপরাধ নারীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এই অপরাধে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য।"

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার একটি ফ্ল্যাটে চাকরিজীবী আফরোজাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন আফরোজার ভাই মো. আল মজিদ বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, অনলাইন জুয়ায় প্রচুর অর্থ হারিয়ে সেই দেনা পরিশোধের জন্য টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে হৃদয় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। অভিযুক্ত হৃদয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর আদালত এই মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।