দেশের বাজারে প্রচলিত ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলের তুলনায় নন-ব্র্যান্ডেড বা খোলা তেলে প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষকের পরিচালিত গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।
গবেষণার জন্য গবেষকেরা ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপ থেকে তিনটি ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল এবং ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকার খোলা বাজার থেকে তিন ধরনের নন-ব্র্যান্ডেড তেলের নমুনা সংগ্রহ করেন। আধুনিক পরীক্ষাগার প্রযুক্তির মাধ্যমে মোট ৬০টি নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা বিদ্যমান। এর মধ্যে ব্র্যান্ডেড তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৪৮ হাজার ৬৭টি এবং নন-ব্র্যান্ডেড তেলে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি কণা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, ব্র্যান্ডেড তেলের তুলনায় নন-ব্র্যান্ডেড তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ১১ হাজার ৭১১টি বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পরীক্ষা করা ৬০টি নমুনার সবকটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
নমুনাসমূহের মধ্যে তেজগাঁও এলাকা থেকে সংগৃহীত নন-ব্র্যান্ডেড তেলের দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। গবেষকদের ধারণা, শিল্প এলাকার পরিবেশগত প্রভাব, পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাত্রে তেল সংরক্ষণ, খোলা অবস্থায় বিক্রি এবং স্বাস্থ্যবিধির অভাবের কারণে নন-ব্র্যান্ডেড তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বোতলজাত ও ব্র্যান্ডেড তেলেও বিপুল পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাওয়ায় উৎপাদন, পরিশোধন, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও পরিবহনের বিভিন্ন ধাপকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এর ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায় এই গবেষণাটি প্রকাশ করেছে।
ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বিক্রির প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গবেষকেরা। তবে গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলেও এটি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রোগ সৃষ্টি করে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। মানবদেহে এসব কণার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বুঝতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।