জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহসী ও অসামান্য ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেছেন যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তারা ঋণী। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই কথা বলেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালে আমরা সব সময় অপেক্ষায় থাকতাম, কখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি বড় মিছিল আসবে। প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অসামান্য অবদান রেখেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমরা অনেক বেশি ঋণী।’
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা হিসেবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রভাবক ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়...২০২৪ সালের ১৫ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাই-বোনেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের সেই অবদান আমরা আজও স্মরণ করি।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘যুগে যুগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের পর নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পেরেছে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এখনো নানা ক্ষেত্রে অবহেলিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি তেমন বিশেষ কিছুই পায়নি। আবাসন-সংকট, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজের ধীরগতিসহ বিভিন্ন সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। আমি উপদেষ্টা থাকাকালে আমার অবস্থান থেকে আবাসন ভাতা, বাজেট বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া বাস্তবায়নের জন্য উচ্চপর্যায়ে কথা বলার চেষ্টা করেছি।’
বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সংঘটিত হয়েছিল। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। প্রশাসনকে প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার অবদান আরও বেশি করে সংরক্ষণ ও ডকুমেন্টেশন করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’
সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল-আমিন, এনসিপির জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের মা-বাবা এবং চিঠি লিখে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শহীদ শিশু শাহরিয়ার খান আনাসের মা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা ও আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব শাহীন মিয়া ও মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ।