চট্টগ্রামের সিডিএ অ্যাভিনিউর মুরাদপুরে ইয়ামাহার অনুমোদিত পরিবেশক ‘টুয়েন্টি এইট মোটরস’ তাদের নতুন ও আধুনিক শোরুমের যাত্রা শুরু করেছে। কাচঘেরা এই ভবনটিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে উজ্জ্বল লাল রঙের ইয়ামাহা লোগো। শোরুমের কেন্দ্রে একটি গোলাকার ডিসপ্লে জোনে রাখা হয়েছে স্পোর্টস বাইক, যার চারপাশে সাজানো সারি সারি মোটরসাইকেল। দেয়ালের একপাশে ইয়ামাহার সাত দশকেরও বেশি সময়ের বৈশ্বিক পথচলার টাইমলাইন এবং অন্যপাশে জেনুইন অ্যাপারেলস, হেলমেট ও অ্যাকসেসরিজের জন্য আলাদা কর্নার রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে কাচঘেরা আধুনিক সার্ভিস জোন। পুরো জায়গাটি দেখে মনে হয়, এটি শুধু মোটরসাইকেল বিক্রির শোরুম নয়, বরং রাইডারদের জন্য একটি লাইফস্টাইল জোন।

গত শনিবার (২৫ জুলাই) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শোরুমটির উদ্বোধন করা হয়। এদিন সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। চট্টগ্রামের সিআরবি মোড় থেকে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি র‌্যালি শুরু হয়, যা টাইগারপাস হয়ে মুরাদপুরের নতুন শোরুমের সামনে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে কেক কেটে শোরুমটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও টুয়েন্টি এইট মোটরসের স্বত্বাধিকারী তামিম ইকবাল খান এবং এসিআই মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। এসময় ইয়ামাহা ও এসিআই মোটরসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অনেক বাইকপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তামিম ইকবাল বলেন, ‘ইয়ামাহা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত। এই শোরুম চালুর মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাইকপ্রেমীদের জন্য ভালো কিছু করা হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।’

অন্যদিকে সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, ‘এই শোরুম আমার দেখা পৃথিবীর বৃহত্তম ইয়ামাহা ডিলার শোরুম। এখানে এলে শুধু মোটরসাইকেলপ্রেমীরাই নন, যে কারও মন ভালো হয়ে যাবে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাঁরা বাইক ট্যুরে আসেন, তাঁদেরও এখানে আমন্ত্রণ। এটি দেশের সর্বাধিক মোটরসাইকেল বিক্রির ডিলার পয়েন্ট হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

উদ্বোধনের পর অতিথিরা শোরুমটি পরিদর্শন করেন। দর্শনার্থীরা বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেলের সামনে ছবি তোলেন এবং বিক্রয়কর্মীদের কাছ থেকে বাইকের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও সার্ভিস জোন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

এই শোরুমে ইয়ামাহার বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোটরসাইকেলের পাশাপাশি রাইডিং গিয়ার, হেলমেট, অ্যাপারেলস, জেনুইন স্পেয়ার পার্টস ও ইয়ামালুব পণ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া আধুনিক সার্ভিস বে-তে একসঙ্গে একাধিক মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। সদরঘাট থানার বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী জুনায়েদ আরমান বলেন, ‘চট্টগ্রামে এত বড় পরিসরে মোটরসাইকেলের শোরুম আগে দেখিনি। চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে এটি। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল আমার ছোট ভাইকে একটা বাইক কিনে দেব। এর আগে সে ইয়ামাহার অন্য মডেলের বাইক চালিয়েছে। এখন ‘ইয়ামাহার এফ জেড এস ভি ৪’ মডেলটা নিতে চায়। ভাবছি এই শোরুম থেকেই বাইকটা কিনে ছোট ভাইকে সারপ্রাইজ দেব।’

নতুন এই শোরুমে ইয়ামাহার জনপ্রিয় সব মডেলের মোটরসাইকেল, আধুনিক বিক্রয়োত্তর সেবা এবং প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে সার্ভিসিং সুবিধা পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে, এটি চট্টগ্রামের মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য কেবল একটি বিক্রয়কেন্দ্র নয়, বরং রাইডিং সংস্কৃতির এক নতুন ঠিকানায় পরিণত হবে।