যাঁরা জনগণের ওপর ক্ষমতা দেখান, জনগণকে ছোট করেন কিংবা তাঁদের তেলাপোকা-ছারপোকা মনে করেন, এমন ঔদ্ধত্য প্রদর্শনকারী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা দলের পাশাপাশি জনগণেরও শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে কোনো ষড়যন্ত্রকারীরই ক্ষমতা থাকবে না।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর স্বনির্ভর খালের পাশে উপজেলা কৃষক দলের আয়োজনে এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাটির ওপরে দাঁড়িয়ে একমাত্র ক্ষমতা দেখাতে পারে জনগণ। আমাদের দেশের এত ক্ষমতার মালিক শেখ হাসিনাকে শেষ পর্যন্ত বিড়ালের মতো পালিয়ে যেতে হয়েছে। ভারতের মতো একটি বড় রাষ্ট্রে অল্পবয়সী তরুণ ছাত্রদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। সেই দেশটির শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সেই তেলাপোকাদের কারণেই সেই দেশের সরকারকে আত্মসমর্পণ করে তাদের দাবি মেনে নিতে হয়েছে। অতএব যখন-তখন জনগণকে ছোট করা, তেলাপোকা বা ছারপোকা মনে করা, এ ধরনের ঔদ্ধত্য যেসব রাজনৈতিক নেতা-কর্মী দেখান, তাঁরা দলের শত্রু ও জনগণের শত্রু। অতীতে আমি এ বিষয়ে সতর্ক করেছি, বর্তমানেও সতর্ক করে দিচ্ছি।’

দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ধানের শীষের হাতে যখন ক্ষমতা আসে এবং শহীদ জিয়া পরিবারের হাতে যখন শাসনক্ষমতার দায়িত্ব আসে, তখন সেই ক্ষমতার কোনো অপপ্রয়োগ সর্বোচ্চ মহলে হয় না। কিন্তু নিচের পর্যায়ে আমরা কেউ ভুলভ্রান্তি করলে সেই দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত দলের ঘাড়ে যায়। তাই বিভ্রান্তিকর নেতা-কর্মীদের ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁরা প্রকৃত দাবিদারদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ভুয়া দাবিদারকে যাতে তালিকাভুক্ত না করেন, সেই বিষয়ে সতর্ক করছি।’ দালালি প্রতিরোধে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কাজ বণ্টনের নামে কেউ যদি দালালির দায়িত্ব নেয়, প্রমাণসহ আমাদের কাছে নিয়ে আসবেন। মাঝখানে কোনো দালাল, মধ্যস্বত্বভোগীকে থাকতে দেওয়া যাবে না।’

সোমবার থেকে দুই দিনের সফরে বরিশালে আসা জহির উদ্দিন স্বপন মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বেলা ১১টায় গৌরনদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, সবুজ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিটি নাগরিকের অন্তত একটি গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই এবং এতে শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি একটি চারা রোপণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ করেন। এই বৃক্ষমেলা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

পরবর্তীতে দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০২৬-এর অর্থায়নে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়াসামগ্রী ও বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচিতে জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মিজানুর রহমান খান (মুকুল), উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, সাবেক আহ্বায়ক আবুল হোসেন মিয়া, সদস্যসচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান, জেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শরীফ শফিকুর রহমান প্রমুখ।