শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে নড়িয়া থানা পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটিপাড়া এলাকার হযরত আলী খন্দকার, ইমন খন্দকার ও নড়িয়ার আচুড়া এলাকার রাব্বি।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন তার স্বামী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার সন্ধ্যার দিকে হযরত নামে এক যুবকসহ কয়েকজন মিলে তার স্বামীকে অপহরণ করে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে অপহৃত স্বামীর মোবাইল ফোন থেকে কল করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের হতে বলা হয় এবং তাকে নিয়ে আসার জন্য একজন লোক পাঠানো হয়। তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আগে থেকেই তার স্বামীকে বেঁধে রাখা ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীর সামনেই তিনজন মিলে ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। ঘটনার সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমার স্বামী তার মোবাইল থেকে রাত ৯টার দিকে কল করে আমাকে বাসা থেকে বের হতে বলে একজন লোক পাঠান। আমি সেই লোকের সঙ্গে অটোতে করে যাই। পরে আমাকে আচুড়ার একটি জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্বামীকে আগেই বেঁধে গলায় ছুরি ধরে রাখা হয়েছে। এরপর তার সামনেই হযরতসহ তিনজন আমাকে ধর্ষণ করেন। আমি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করেন।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক যুবক জানান, গভীর রাতে বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে তারা এগিয়ে যান। সেখানে এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর সঙ্গে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। জিজ্ঞেস করলে তারা ধর্ষণের কথা জানান। এরপর বাড়ির নারীরা ওই নারীকে উদ্ধার করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, “জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাই এবং ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাই। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর সঙ্গে অভিযুক্তদের মাদক সংক্রান্ত লেনদেন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”