গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ময়লার ভাগাড় নির্মাণ বন্ধ এবং মহেশখালী ও চকরিয়ার গর্জনবনে সড়ক নির্মাণ বন্ধসহ দেশের বন রক্ষার দাবিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নাগরিক সমাবেশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। মঙ্গলবার বন অধিদপ্তরের সামনে ‘বিক্ষুব্ধ পরিবেশবাদীগণ’–এর ব্যানারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ‘এলজিইডির কাম কী, বন উজাড় আর কী’, ‘প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়ন, আর নয় আর নয়’, ‘বন বাঁচাও, প্রাণ বাঁচাও’, ‘পরিবেশ রক্ষায়, আপস নয়’—এমন সব স্লোগান দেন। এসময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি কর’, ‘বনের মধ্যে ভাগাড় নয়’, ‘সিটি করপোরেশনের কাজ পরিবেশ বাঁচানো, দূষণ করা নয়’, ‘ময়লার ভাগাড় বনে কেন? জবাব চাই’, ‘মধুশিয়া গর্জনবনে, সড়ক নির্মাণ করা যাবে না’, ‘কাঠের চশমা পরে থাকলে দূষণ দেখব কেমনে’ প্রভৃতি লেখা ছিল।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির সমাবেশে বলেন, ‘বন্য প্রাণী রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীকেও আমরা পরিবেশের পক্ষে কথা বলতে দেখি। তিনি পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন কাজ করছেন। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা যখন দেখি, গাজীপুর সিটি করপোরেশন বনের ভেতর রাস্তা ও ভাগাড় নির্মাণ করে, তখন প্রশ্ন জাগে, তারা কি আসলে দেশের স্বার্থে কাজ করে?’
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রতিনিধি রুমানা শারমিন জানান, কক্সবাজারে হাতির চলাচলের করিডর রেললাইন নির্মাণের ফলে ধ্বংস হয়েছে। বর্তমানে চকরিয়ার মধুশিয়া গর্জনবন ও মহেশখালীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হাতির চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুট বাধাগ্রস্ত করে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। তিনি এই নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান। বেলার ক্যাম্পেইন ও পলিসি সমন্বয়ক বারিশ হাসান চৌধুরীও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নামে বন ধ্বংস না করার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে পরিবেশবাদীরা বন অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) স্মারকলিপি প্রদান করেন। তাঁদের দাবির তালিকায় রয়েছে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলার প্রকল্প অবিলম্বে বাতিল করে পরিবেশবান্ধব বিকল্প জায়গা নির্বাচন করা। পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা উৎসমুখ থেকেই আলাদা করার আধুনিক পদ্ধতি চালুর দাবি জানান তাঁরা।
এই নাগরিক সমাবেশে বাপা, বেলা, মিশন গ্রিন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।