পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সংগঠনের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মজিদ একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা বিষয়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সময়ে পার্বত্য তিন জেলায় মোট ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৭টি অপহরণ, ১৬টি হত্যাকাণ্ড এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ৩৪টি সংঘর্ষের ঘটনা রয়েছে। এছাড়া নারী সংক্রান্ত প্রতারণা, অপহরণ ও নির্যাতনসহ প্রায় ১৪টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়।
ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মজিদ আরও বলেন, "এক বছরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫২০টি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে।"
লিখিত বক্তব্যে তিনি গত এক বছরের সশস্ত্র কর্মকাণ্ড এবং জননিরাপত্তা পরিস্থিতি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে রয়েছে। তারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিনের সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক সদস্য শাহাদাৎ হোসেন, এরশাদ হোসেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সদস্য রবিউল হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি জালাল আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং সুমন আহমেদ, সোহেল রানা ও মাকসুদুল আলমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।