ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

নিহত ব্যক্তির নাম মহিদুজ্জামান ওরফে মোফাচ্ছেল (৪০)। তিনি গফরগাঁও উপজেলার বারোবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগবেড় এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে। পেশায় তিনি মাছের রেণু পোনা উৎপাদন ও ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বাগবেড় এলাকায় মহিদুজ্জামানকে তাঁর মাছের ঘেরে মুঠোফোনে কল করে ডেকে নেওয়া হয়। উপজেলার সুমপাড়া মড়লবাড়ী এলাকার তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তপন (৩৫) তাঁকে সেখানে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। সেখানে পৌঁছানোর পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা প্রথমে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

মহিদুজ্জামানের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে গফরগাঁও থানা-পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে গফরগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘কেন মহিদুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছে, সে রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দুটি ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’