নাটোরের নলডাঙ্গায় বক ও শালিক পাখি শিকার এবং জবাই করার অপরাধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের নাটোর এসএফএনটিসির ফরেস্ট রেঞ্জার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে নলডাঙ্গা থানায় এই অভিযোগ জানান।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিলা এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি ফাঁদ ও ফাঁস জাল ব্যবহার করে শালিক ও বক পাখি শিকার করে জবাই করেন। পরবর্তীতে মাংস ভক্ষণের উদ্দেশ্যে পাখিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-২ এর অন্তর্ভুক্ত এই পাখিগুলো শিকার করা উক্ত আইনের ধারা ৪২(১)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। শিকারিদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শালিক পাখি শিকার ও জবাই করার দুটি ভিডিও (২০ ও ২৭ সেকেন্ডের) ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন ব্যক্তি বিলে ফাঁদ পেতে শালিক ধরে জবাই করে একটি তালগাছের নিচে জমা করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই হাটবিলা গ্রামের একটি বিলে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় সেখানে স্থানীয় বিপ্লব তালুকদার, আশিক হোসেন, ইসলাম হোসেন ও সজিব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে বন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, "পাখি হত্যার ঘটনাটি আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর সরাসরি আঘাত। এ বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নলডাঙ্গা থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হয়েছে। আশা করছি প্রশাসন দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে।"

উচ্চপদস্থ বন কর্মকর্তা সুবেদার ইসলামও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের এজাহার দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম জানান, বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।