দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার এক কেন্দ্রে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রথম পত্রের পরিবর্তে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর রুমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কেন্দ্রটিতে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৯২ জন। এর মধ্যে ৩০১ নম্বর কক্ষের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ৯ জন পরীক্ষার্থী প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী ২৯ জুলাই এই বিষয়ের দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা। তবে পরীক্ষার শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র চলে যায়। বিষয়টি কক্ষ পরিদর্শককে জানানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে ভুল প্রশ্নপত্রগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরীক্ষা কমিটির হল সুপারের দায়িত্বে থাকা সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজের শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, প্রশ্নপত্রের খামের গায়ে প্রথম পত্র লেখা ছিল এবং সেই অনুযায়ী খামটি আনা হয়েছিল। তবে খাম খোলার পর দেখা যায় ভেতরে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র রয়েছে। তিনি বলেন, "বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। পরে পাশের কেন্দ্র (সেতাবগঞ্জ সরকারি কলেজ) থেকে প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র এনে পরীক্ষা পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১০ মিনিট বিলম্ব হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের ১০ মিনিট বাড়িয়ে দেওয়া হয়।"
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র সচিব (ভারপ্রাপ্ত) কুশল চন্দ্র রায়, হল সুপার আবুল কাশেম এবং ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহিদা ফারজানাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "প্রশ্নপত্র সাজানোর সময় হয়তো কোনো ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তারপরও যে কয়েকজন দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।"
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বোরহান উদ্দিন স্বীকার করেছেন যে, কয়েকজন পরীক্ষার্থীর হাতে প্রথম পত্রের বদলে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র চলে গিয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাশের কেন্দ্র থেকে সঠিক প্রশ্নপত্র এনে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি খামে ২০ থেকে ৫০টি প্রশ্ন থাকে বলে পাশের কেন্দ্রে বাড়তি প্রশ্ন ছিল।
দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীরা দেখে ফেলায় কোনো সমস্যা হবে কি না, সে বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রের চারটি সেট থাকে। যেহেতু দ্বিতীয় পত্রের একটি সেট পরীক্ষার্থীরা দেখে ফেলেছে, তাই ২৯ জুলাই অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় বিকল্প সেটের প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে।