ইতালি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে গেল। কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলো আর ইতালির কোচ হচ্ছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনির কাছ থেকে কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন পিরলো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি ছিল, তিনি এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং একটি রাশিয়ান জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তির কারণে শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পিরলো তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছেন, ‘গত রাতে আমি জানতে পেরেছি যে আমি আর ইতালি জাতীয় দলের কোচ পদের জন্য প্রার্থী নই।’
২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক তারকা রাশিয়ান বেটিং প্রতিষ্ঠান ‘ফনবেট’-এর দূত হিসেবে কাজ করছেন। এই বিষয়টি নিয়ে ইতালির বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। তাঁদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইতালির যে অবস্থান, তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ভূমিকা জাতীয় দলের কোচের থাকা উচিত নয়।
বর্তমানে আরব আমিরাতের ক্লাব দুবাই ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পিরলো। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ইতালির দায়িত্ব নিতে তিনি ক্লাবটির কাজ ছাড়তে প্রস্তুত ছিলেন। এর আগে জুভেন্টাস ও সাম্পডোরিয়ার কোচ হিসেবে খুব একটা সফল না হলেও, জুভেন্টাসকে ইতালিয়ান কাপ ও ইতালিয়ান সুপারকাপ জিতিয়েছেন তিনি।
বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে পিরলো এর আগে ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছিলেন, ফনবেটের সঙ্গে এই চুক্তিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাঁর কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এটি ‘সম্পূর্ণভাবে বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াসুলভ’ উদ্দেশ্যে করা। সেই পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ‘এই সহযোগিতায় রাজনৈতিক অর্থ খোঁজার অর্থ হলো,আমার ওপর এমন মতামত চাপিয়ে দেওয়া, যা আমি কখনো প্রকাশ করিনি এবং যা আমার নিজের বিশ্বাসেরও নয়।’
এফআইজিসি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মালদিনি পিরলোর সঙ্গে যোগাযোগের আগে কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলার সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। এপি-র তথ্যমতে, পিরলোর প্রস্থান পর এখন পুনরায় আলোচনায় ফিরে এসেছেন সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনি ও আন্তোনিও কন্তে।
চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি বর্তমানে ফুটবলীয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। টানা তিনটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা এই দল দ্রুতই বিশ্ব ফুটবলের অভিজাত মঞ্চে ফিরতে চায়। সেই লক্ষ্যেই তারা একজন দক্ষ ও বড় মাপের কোচ খুঁজছে। উল্লেখ্য, মানচিনি ২০২০ ইউরো জয়ী কোচ। অন্যদিকে কন্তে ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ইতালির কোচ হিসেবে কোনো শিরোপা জিততে না পারলেও ইন্টার মিলান, নাপোলি, জুভেন্টাস এবং চেলসিকে লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন।