চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদরদপ্তরের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে তিন ইউনিয়নে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি চলছে। সোমবার (২৭ জুলাই) কর্মসূচির শেষ দিনেও ওই এলাকার কোনো সড়কে গণপরিবহন চলাচল করেনি। এর আগের দিন রোববার হরতালের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও সোমবার তেমন কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারঘোষিত বর্তমান স্থান ‘পশ্চিম ভূজপুর মৌজা’ উপজেলার একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এর ফলে সীমান্তসংলগ্ন বাগানবাজার বা হেঁয়াকো এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক কাজে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে, যা চরম ভোগান্তির কারণ হবে। তাই সর্বউত্তরের এই তিন ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো যৌক্তিক স্থানে সদরদপ্তর স্থানান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার সকাল থেকেই ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর কর্মীরা হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ করেন। বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেঁয়াকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় মিছিল-বিক্ষোভ করা হয়। তবে কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ কিংবা গ্রেপ্তারের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এই হরতালের প্রভাবে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি (ফটিকছড়ি অংশ) আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ফেলাগাজি দিঘি-হেঁয়াকো সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ থাকে। ফলে বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকে পড়ায় সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে গণমাধ্যমকে জানান, "তিন ইউনিয়ন—দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও বাগানবাজারের বিভিন্ন সড়কে হরতাল সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেছেন। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং সোমবার হরতালবিরোধী কোনো সমাবেশও হয়নি।"
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অর্ধশত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।