বাগেরহাটে আইনজীবী নিজাম উদ্দিন শান্ত (৪২) হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৫০ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শেখ মুরাদ (৪১), আবু তাহের দীপ ওরফে দিপু (২৯), মো. হাফিজুর রহমান (৪৮) ও মো. শিপন শেখ (২৮)।

নিহত অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে আদালতের কাজ শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। রাত ১টার দিকে বাগেরহাট পৌরসভার হাড়িখালী তেঁতুলতলা মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায় ঘাতকরা।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার দ্রুত রহস্য উদঘাটনে সদর মডেল থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে তদন্ত চালিয়ে রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সদর উপজেলার তেঁতুলতলা মোড়সংলগ্ন পিসি ডেমা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদানকারী ছিল শেখ মুরাদ। তার কাছ থেকেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. নাসের রিকাবদার বলেন, "ঘটনার ৫০ ঘণ্টার মধ্যেই ডিবি পুলিশের অভিযানে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।"

তিনি আরও জানান, "আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে।"