ইতালির জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই বিতর্কের মুখে পড়েছেন আন্দ্রেয়া পিরলো। রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসায় ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) এবং দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের প্রথম পছন্দ ছিলেন সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। তবে তিনি রাজি না হওয়ায় ৪৭ বছর বয়সী পিরলোকে বেছে নেওয়া হয়, যিনি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রো লিগ ক্লাব ইউনাইটেড এফসির (দুবাই) দায়িত্ব পালন করছেন।

পিরলোর রাশিয়া-সংশ্লিষ্টতার প্রভাব নিয়ে এখন হিসাব কষছেন এফআইজিসির শীর্ষ কর্তারা ও পার্লামেন্ট সদস্যরা। যদিও এফআইজিসি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, পিরলোর রাশিয়া-যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

গত অক্টোবরে রাশিয়ার বেটিং প্রতিষ্ঠান ফনবেতের সঙ্গে দূত হিসেবে চুক্তি করেন পিরলো। সাবেক সতীর্থ মার্কো মাতেরাজ্জির সঙ্গে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ওই প্রতিষ্ঠানের এক অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, ইউক্রেনে বিমান হামলা চলাকালীন এই প্রচারমূলক আয়োজনটি করা হয়েছিল।

এই পরিস্থিতি এফআইজিসির নতুন সভাপতি জিওভান্নি মালাগোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা তিন বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারায় ইতালি এমনিতেই চাপের মুখে ছিল, এখন এই বিতর্ক সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এফআইজিসির নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনির সমর্থন থাকলেও রাজনীতিবিদদের আপত্তি জোরালো হয়েছে। তাঁদের মতে, জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি জাতীয় দলের দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট পিনা পিচেয়ার্নো সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন, "আরেকটি হারের এবং বিশ্বকাপ বাছাই থেকে ছিটকে পড়ার পর ইতালীয় ফুটবলে সাংস্কৃতিক, নৈতিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন জরুরি ছিল; কিন্তু পিরলোকে বেছে নেওয়া ঠিক এর বিপরীত পথ।"

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দলের সদস্য ও সিনেটের প্রধান ইগনাৎসিও লা রুসা সংবাদ সংস্থা এএনএসএকে জানিয়েছেন, মালাগো, লিওনার্দো ও মালদিনির প্রতি সম্মান রেখেই তিনি এতদিন নীরব ছিলেন। তবে কোচ হিসেবে পিরলোর নিয়োগকে তিনি তুলনা করেছেন "অন্ধকারে ঝাঁপ দেওয়ার সঙ্গে!"

মধ্যপন্থী দল আৎসিওনের নেতা কার্লো কালেন্দা আরও কঠোর ভাষায় বলেছেন, ২০২২ সালের পর যাঁরা রাশিয়ার প্রচারে যুক্ত থেকেছেন, তাঁদের কোনো জাতীয় দায়িত্বে থাকা উচিত নয়।

এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে পিরলো লিখেছেন, “গত কয়েক দিনে ইতালি জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আমার নাম ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে অনুসরণ করছি। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, ফুটবল ফেডারেশন এবং এ বিষয়ে জড়িত সবার প্রতি সম্মান দেখিয়ে এত দিন আমি নীরব ছিলাম। তবে এখন কিছু বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “খেলোয়াড় হিসেবে এবং এখন কোচ হিসেবে আমার পুরো ক্যারিয়ারে আমি সব সময় যে দেশে কাজ করেছি, সেই দেশের আইন এবং আমার করা চুক্তিগুলোর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে দায়িত্ব পালন করেছি। সাম্প্রতিক বিতর্কে যে পেশাদার সহযোগিতার কথা বলা হচ্ছে, সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমার পেশাগত কাজের অংশ। এর প্রকৃতি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট। এই সহযোগিতার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো অর্থ খুঁজে নেওয়া মানে আমার ওপর এমন কিছু বিশ্বাস ও মতামত আরোপ করা, যা আমি কখনো প্রকাশ করিনি এবং যা আমারও নয়।”