বিশ্বকাপের ব্যর্থ অভিযানের পর সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরেছেন নেইমার। তবে গোল করতে পারলেও মাঠের বাইরে বিতর্ক থামেনি। শোনা যাচ্ছে, ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে কথার টানাপোড়েন হয়েছে, অনুশীলনেও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়ে পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে।

শনিবার রাতে শাপেকোয়েন্সের সঙ্গে ২-২ ড্র ম্যাচের পরদিন সান্তোসে অনুশীলন ছিল। রোববার পেলে ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিতও হন নেইমার। ছবি তোলেন, কফি পানও করেন। কিন্তু মূল দলের অনুশীলন শুরুর আগেই তিনি চলে যান। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম বলছে, কোচিং স্টাফের অনুমতি ছাড়াই নেইমার অনুশীলন মাঠ ছেড়েছেন।

ওই অনুশীলন না করার ঘটনাটি হয়েছে শাপেকোয়েন্স ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে হওয়া আরেকটি বিতর্কের রেশ কাটার আগেই। ও’গ্লোবোর প্রতিবেদন বলছে, নেইমার সান্তোসের মিডফিল্ডার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসকে তিরস্কার করতে গিয়ে অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বন্তেম্পোকে ‘বাজে লোক’ গালি দেওয়ার পাশাপাশি পরের মৌসুমে তাঁকে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে আবার খেলতে হবে বলে বিদ্রূপ করেন নেইমার। শাপেকোয়েন্স এখন ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে ২০ দলের মধ্যে সবার শেষে অবস্থান করছে এবং আগামী মৌসুমে দলটি নিচের লিগে নামার পথে।

এ ছাড়া ম্যাচের ৬২ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করা ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেইমার। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কিও হয় বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ আছে।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম আরও জানায়, ড্রেসিংরুমের ঘটনার পর পুরো পরিস্থিতি বুঝতে ক্লাবের কয়েকজন পরিচালক রোববার ট্রেনিং সেন্টারে যান। তবে নেইমার সেখানে অল্প কিছুক্ষণের বেশি ছিলেন না।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান তুলে ধরে লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, এটি আমাদের প্রত্যাশিত দিন ছিল না। তবে আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে এবং কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ড্রেসিংরুমে আমি নাকি তরুণ খেলোয়াড়দের ধমক দিয়েছি! এমন কিছু খবর দেখছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

আরেকটি ভিডিওতে নেইমার বলেন, ‘যিনি এসব কথা ছড়িয়েছেন, তাঁকে বলছি, দয়া করে এমন করবেন না। মিথ্যা বলবেন না। চাইলে যাকে খুশি জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমরা পুরো দলকে নিয়েই কথা বলেছি। আমি, লুকাস (ভেরিসিমো), আরাও, গাবি, ব্রাজাও—আমরা সবাই একসঙ্গে আলোচনা করেছি। নিজেদের কাছ থেকেই আরও বেশি কিছু দাবি করেছি। কারণ, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পছন্দ করি, আমরা জিততে চাই, সফল হতে চাই। কিন্তু তরুণ খেলোয়াড়দের আলাদা করে ধমক দেওয়া বা তাদের ওপর চড়াও হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এসব মিথ্যা আমি মেনে নেব না।’

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি ‘ঘ্যান ঘ্যান না করে নিজেদের চরকায় তেল দিন’ বলেও উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে এসেছে।

সান্তোসে নেইমারের সঙ্গে সতীর্থদের সম্পর্ক নিয়ে এটি নতুন কোনো বিতর্ক নয়। ক্লাবের ভেতরের সূত্রগুলোর দাবি, ড্রেসিংরুমের পাশাপাশি নেইমারের মাঠের কিছু আচরণও তাঁর সতীর্থদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো আক্রমণ সফল না হলে বা কোনো খেলায় ভুল হলে নেইমার প্রকাশ্যেই সতীর্থদের সমালোচনা করেন। এতে দলের কিছু খেলোয়াড়ের মনে চাপ তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তাঁদের আশঙ্কা—ভুল হলে নেইমার সমর্থকদের সামনেই তা তুলে ধরবেন।

তরুণ খেলোড়াদের সঙ্গে নেইমারের বিরোধের আরেকটি আলোচিত ঘটনা ঘটে এ বছরের জানুয়ারিতে রবসন জুনিয়রকে ঘিরে। অনুশীলনের সময় রবসন তাঁকে কাটিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে অসম্মানিত মনে করে নেইমার তাঁকে চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রবসন বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানান। এ ঘটনার পর নেইমার প্রকাশ্যে সতীর্থের কাছে ক্ষমাও চান।