জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাভারে শিক্ষার্থী শাইখ আশহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। আজ রোববার প্রসিকিউশন এই অভিযোগ দাখিল করলে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজামান, সাবেক পরিদর্শক এ এফ এম সায়েদ, সাবেক এএসআই মোহাম্মদ আলী, সাবেক নায়েক মো. সুহেল মিয়া ও সাবেক কনস্টেবল মো. মাহফুজ মিয়া।

এছাড়া আসামি করা হয়েছে সাভারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. আতিকুর রহমান, সাভারের তেতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেহেদী হাসান তুষার, সাভার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যানের পিএস মো. রাজু আহম্মেদ, বনগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফরিদ, সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জামান খাঁন, ঢাকা জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান ও শরফ আশরাফুল আলমকে।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শাইখ আশহাবুল ইয়ামিন শহীদ হন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে দেখা যায়, ‘পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে একজন জীবন্ত মানুষকে এভাবে কোনো মানুষ ফেলে দিতে পারে না’।

শহীদ ইয়ামিন রাজধানীর মিরপুরের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এমআইএসটির ওসমানী হলে থাকতেন এবং তাঁর স্থায়ী বাসা সাভারের ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকায়।