ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তির পরপরই দেশ ও বিদেশের শাকিব-ভক্ত এবং সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে ‘রকস্টার’। আজমান রুশো পরিচালিত ও শাকিব খান অভিনীত এই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে চলছে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।

সিনেমাটি দেখার পর নিয়ামুল করিম পিয়াল নামের এক দর্শক লিখেছেন, ‘খুব ভালো সিনেমা, দারুণ সিনেমা। কিন্তু শেষটা সুখের হলে ভালো হতো, তারপরও শেষটা সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে।’ অন্যদিকে, শাকিব খানের সব সিনেমাই ভালো বলে দাবি করে ইফরান আকাশ নামের এক ভক্ত লিখেছেন, ‘শাকিব ভাইয়ের সব মুভি অসাধারণ হয়, এই মুভির গল্প এক শ তে এক শ।’

চরকির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও দর্শকদের ইতিবাচক মন্তব্য উপচে পড়ছে। সেখানে অনেকে লিখেছেন, ‘অসাধারণ ও চমৎকার একটি চলচ্চিত্র’, ‘অসাধারণ একটি মুভি’, ‘মাত্র দেখে শেষ করলাম’ এবং ‘এই প্রথম কোনো সিনেমা ওটিটিতে দেখার জন্য এক্সাইটেড হয়ে আছি’। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মোহাম্মদ ইয়াসিন সিনেমাটি দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ফুল মুভি দেখতে পারব কীভাবে, আমি তো সাউথ আফ্রিকা।’

কলকাতার রিভিউয়াররাও সিনেমাটি নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেছেন, যেখানে সিনেমাটোগ্রাফি, লোকেশন, গান ও অভিনয়ের প্রশংসা করা হয়েছে। ‘অরিত্রস জ্ঞান’ ইউটিউব চ্যানেলের অরিত্র শাকিব খানের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে শাকিবকে একের পর এক গ্যাংস্টারের চরিত্রে দেখা যাচ্ছিল। সেখান থেকে তিনি নিজেকে ভেঙে যেভাবে ভিন্নধর্মী চরিত্রের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন এবং উতরে গেছেন, সেটা তারিফ করার মতো।

সেনশেসন প্রেজেন্টস ‘রকস্টার’ চরকিতে এনহেন্সড কাট হিসেবে মুক্তি পেয়েছে, যা প্রেক্ষাগৃহের সংস্করণের চেয়ে আট মিনিট ছোট। এই পরিবর্তনটি লক্ষ্য করেছেন দর্শকরা। এক দর্শক লিখেছেন, ‘পলিশ লেগেছে একটু। আর সাউন্ড ডিজাইনটা হালকা পরিবর্তন লাগল, হয়তো উন্নত করেছে।’

তবে এই উন্মাদনার মাঝে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পাইরেসি’। চরকির ফেসবুক পেজের কমেন্ট বক্সে অনেকেই পাইরেসি ফাইলের কথা উল্লেখ করেছেন। কেউ লিখেছেন, ‘লিংক চাইলে আমার কাছে আসেন’, আবার কেউ লিখেছেন, ‘যার লাগবে ইনবক্স করুন’। এই পরিস্থিতি পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিচালক আজমান রুশো জানান, বাস্তব জীবনের রকস্টারদের অভিজ্ঞতা ও নিজের মিউজিশিয়ান জীবনের স্মৃতির মিশেলে তিনি এই গল্পটি তৈরি করেছেন। সিনেমায় শাকিব খানকে প্রথাগত অ্যাকশন হিরো বা গ্যাংস্টার লুকে নয়, বরং একজন সংগীতশিল্পীর জীবন সংগ্রাম ও উত্থান-পতনের বাস্তব চরিত্রে দেখা গেছে। এই চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি নিজের ওজন কমিয়েছিলেন।

নুসরাত মাটির চিত্রনাট্য এবং আয়মান আসিব ও সামিউল ভূঁইয়ার সংলাপে নির্মিত এই সিনেমার সব গানের কথা ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি, যিনি নিজেই কণ্ঠ দিয়েছেন। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন জাহিদ নিরব।

সিনেমাটিতে মীরা চরিত্রে সাবিলা নূর, সুপার মডেলের চরিত্রে তানজিয়া জামান মিথিলা, সুনিধি চরিত্রে সুনিধি নায়েক, কয়েদি সংগীতশিল্পীর চরিত্রে পান্থ কানাই, ওস্তাদ জুনায়েদ চরিত্রে তারিক আনাম খান, আগুনের মা শবনম চরিত্রে রোজী সিদ্দিকী, আগুনের দাদির চরিত্রে দিলারা জামান এবং আগুনের সহকারী-বন্ধু আসলাম চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী সাবির।

অঞ্জন চৌধুরী নিবেদিত এই সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড এবং এর এক্সক্লুসিভ স্ট্রিমিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে চরকি।