রথযাত্রা উপলক্ষে রাজশাহী নগরের সাগরপাড়া এলাকায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সড়কের দুই পাশে মেলা বসেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই মেলায় এবার প্রথমবারের মতো রাজশাহী মহানগর (সদর) মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সকে একটি স্টল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই ভবনটি কার অনুমতিতে এবং কার মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নওগাঁর একজন আসবাবপত্র ব্যবসায়ী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নিচতলায় দোকান বসিয়েছেন। দোকানের তদারককারী বিশ্বনাথ সরকার ভবনটি ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের এমনিতেই ব্যবহার করতে দিয়েছেন।"
মেলা সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাস্তায় একটি ছোট স্টল বসানোর জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও ১৫ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। এমতাবস্থায় ২ হাজার ২১৬ দশমিক ৪০ বর্গফুটের একটি বিশাল ভবনের জন্য কোনো ভাড়া নেওয়া হয়নি, যা তাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং সদস্যসচিব সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলার উপপরিচালক। এছাড়া কমিটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধি রয়েছেন। এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ জানান, কমপ্লেক্স ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট নন এবং হাতে কোনো টাকাপয়সাও পাননি।
অন্যদিকে, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী বিষয়টি জানেন না। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবুল সালেহ মো. নূর-ঈ-সাইদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সিটি করপোরেশনের রাস্তা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরা জানেন না, মুক্তিযোদ্ধা ভবন কারা ভাড়া দিয়েছেন।"
পদাধিকার বলে পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সমাজসেবা অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপপরিচালক মনিরা খাতুন জানান, এই ভবন ভাড়া দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না এবং ভেতরে দোকান বসানোর কথা নয়। তিনি বলেন, এটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়কের দেখার কথা। ২২ জুলাই যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পরদিন (বৃহস্পতিবার) তিনি সরেজমিনে বিষয়টি দেখবেন।
তবে শনিবার মেলার শেষ দিনে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আসবাবপত্র ব্যবসায়ীর বেচাকেনা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পুনরায় জানতে মনিরা খাতুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভবনটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় কমপ্লেক্সটি ভাঙচুর করে বৈদ্যুতিক পাখাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করা হয় এবং এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ৬১৯ টাকা ব্যয়ে তিনতলা ভবনটি নির্মাণ করে, যা ২০২৩ সালের ২০ জুলাই হস্তান্তর করা হয়।