টাকা গ্রহণের বিনিময়ে আটক এক মাদক কারবারিকে গাড়িসহ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ওই চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে গতকাল শুক্রবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন— হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন মিয়া ও তুহিন মিয়া এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাকিম ও লুৎফর রহমান। জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শাহাদত হোসেনের নেতৃত্বে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ওসি রওশন কবীর। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই বিকেলে সীমান্ত এলাকা থেকে সন্দেহভাজন এক মাদক কারবারিকে হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান অভিযুক্ত চার পুলিশ কর্মকর্তা। তাদের সঙ্গে ছিল একটি সাদা প্রাইভেট কার, মাদকদ্রব্য এবং একটি মালিকবিহীন মোটরসাইকেল। অভিযোগ রয়েছে, ওই ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্য ও এক চৌকিদারের সহায়তায় মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মাদক কারবারিকে গাড়িসহ ছেড়ে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি ওই ইউপির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত চৌকিদার রবিউল ইসলাম আজ শনিবার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এসআই তুহিন আমাকে একটি সাদা কাগজ কিনে আনতে বলেন। আমি কাগজ এনে দিলে তিনি সেটি মুচলেকা লেখার জন্য ব্যবহার করেন। সেখানে আটক ব্যক্তির স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। তবে কী লেখা হয়েছিল, তা আমি জানি না। পরে তাঁরা গাড়ি নিয়ে চলে যান।’
অন্যদিকে, মালিকবিহীন মোটরসাইকেলটি রংপুরের একজন ব্যক্তি এসে নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন ওই ইউনিয়নের আরেক চৌকিদার মো. শামীম।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন জানান, তারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আজ তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে তুহিন মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্য তিন কর্মকর্তার ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে।