১১ দলীয় ঐক্যের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস। এখন থেকে দলটি এককভাবে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের পর এটি দ্বিতীয় দল যারা এই জোটের কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল।

শনিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১১ দলীয় ঐক্য মূলত ছিল একটি নির্বাচনী সমঝোতা। নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে এই ঐক্যের কার্যকারিতাও শেষ হয়ে গেছে। তবে নির্বাচন পরবর্তী কিছু কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নিলেও এখন থেকে তারা যাবতীয় কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দলটি। পাশাপাশি সংসদে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য বিরোধী দলীয় ভূমিকা পালন করে যাবেন।

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "খেলাফত মজলিস এখন থেকে এককভাবে কর্মসূচি দিবে। এসব কর্মসূচিতে অন্য দলের কেউ এসে বক্তব্য দিতে পারবে, খেলাফতের নেতারাও চাইলে অন্য দলের কর্মসূচিতে যেতে পারবেন।"

মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম-মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসাইন, সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও মজলিসে শূরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অধিবেশনে বর্তমান সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায়কে উপেক্ষা করে সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। তাদের মতে, সরকার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করতে চায়, অথচ জনগণ এমন সংস্কার চায় যাতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনপ্রতিষ্ঠার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। নেতারা দাবি করেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা অত্যন্ত জরুরি এবং গণরায় উপেক্ষা করলে সরকার বিপদে পড়বে।

সরকারকে জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অবিলম্বে সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা। একইসঙ্গে জুলাই ও শাপলা গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরে গণসমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যথাসম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনো ১১ দলীয় ঐক্যের সাথে রয়েছে।