পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু, যিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি এবং কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।

হামলার পর তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আক্রান্ত সাংবাদিকের ছোট ভাই সোহাগ খলিফা অভিযোগ করেছেন যে, "পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন।"

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। সেই সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান, যার ফলে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। হামলাকারীরা তাঁকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন জানান, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ বলেন, "ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ।" একই কথা ব্যক্ত করেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্তদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।