বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের যে পতন ঘটেছে, ভারতেও কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির একই পরিণতি হবে বলে দাবি করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নরেন্দ্র মোদি সরকারের দমন-পীড়নের নিন্দা জানিয়ে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘দিল্লির গণ-আন্দোলনের পাশে ঢাকা’র ব্যানারে এক সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের নিপীড়িত ছাত্র-যুব-জনতার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সমাবেশের শুরুতে এক পুলিশ সদস্য মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে কর্মসূচি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আয়োজকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য বক্তব্য বন্ধ থাকলেও, পরবর্তীতে ওই পুলিশ সদস্য সরে গেলে পুনরায় কর্মসূচি শুরু হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, ভারতে চলমান আন্দোলন এখন হিন্দুত্ববাদী শাসন, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণ-আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যেমন শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় হামলা হয়েছিল, ভারতে এখন একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গবেষক ও লেখক মাহতাবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে যখন জুলাই এসেছিল, তখন ফ্যাসিবাদী সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। শেখ হাসিনার মতো নরেন্দ্র মোদির সময় শেষ হয়ে আসছে। তাঁরও পরিণতি ঠিক একই হবে। নরেন্দ্র মোদিকে আমরা বাংলাদেশের এই সংহতি জমায়েত থেকে বলতে চাই, আপনার সময় শেষ হয়ে আসছে।’

সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বেলাল চৌধুরী উল্লেখ করেন, সাংবিধানিকভাবে ভারত ধর্মনিরপেক্ষ হলেও মোদির শাসনামলে ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমে একধরনের ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি তামজিদ হায়দার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ভারতের বিভিন্ন শহরের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছিলেন। এখন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও ভারতের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একই ধরনের সমর্থন জানাতে চান।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় নেতা রাকিব মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্র ভিন্ন হলেও শাসকদের চরিত্র ও শোষিত মানুষের অবস্থান একই। তাই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের যে পরিণতি হয়েছে, ভারতের বর্তমান শাসকদেরও একই পরিণতি হবে।

সাংস্কৃতিককর্মী কনক হায়াতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘ভারত থেকে বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদের দিন শেষ’, ‘কসাই মোদি, ছাড়তে হবে গদি’, ‘স্টে ডাউন মোদি’, ‘সলিডারিটি উইথ দিল্লি’ প্রভৃতি স্লোগানসংবলিত ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।