মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্ত হওয়ার তিন মাস পর এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে উপজেলার অন্বয়পুর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের একটি আমগাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত রেজাউল করিম (৫২) শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। রেজাউলের চার ছেলে ও এক মেয়ে। তিনি তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে আমগাছে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় রেজাউল করিমের মরদেহ ঝুলতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে শিবালয় থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা, এনজিও ও ব্যক্তিগত ঋণের চাপ, চরম আর্থিক সংকট এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন মাস আগে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রেজাউল করিম। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বাড়িতে ফেরেন। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যমতে, শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক বিষাদ ও অর্থনৈতিক দেনার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিবালয় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।