রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে সরকারের কোনো হাত বা দায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

টকশোতে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বা বিরোধী দলগুলোর কেউই সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেবে এমন কোনো পরিস্থিতি গত দুই বছরে তৈরি হয়নি। তাই এখনো তেমন কিছু একমাত্র কারণ হতে পারে বলে আমার মনে হয় না। রাষ্ট্রপতি যদি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন, তবে তা হবে তার একান্তই নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও ইচ্ছা। তাছাড়া তার বয়স হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসার জন্যই লন্ডনে অবস্থান করছিলেন।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথিত গোপন ফোনালাপ প্রসঙ্গে মানসুরা আলম বলেন, ‘যে ফোনালাপের কথা বলা হচ্ছে, সেটির কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। মূলধারার কোনো গণমাধ্যমও এটি প্রমাণ করতে পারেনি। এমনকি রাষ্ট্রপতি নিজেও বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত এসব খবরের কোনো সত্যতা বা নির্ভরযোগ্য সূত্র আমরা পাইনি। তাছাড়া “চট করে দেশে ঢুকে পড়বেন”—এমন কথা ৫ আগস্টের পর থেকেই শোনা যাচ্ছে। দেখতে দেখতে প্রায় দুই বছর হতে চলল, তাকে তো ফিরতে দেখলাম না। ফলে “ডিসেম্বরে ফিরব” এমন ফাঁকা বুলির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তবে তা তার নিজস্ব কারণেই হবে। তিনি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন, তবে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় আইন যেভাবে নির্দেশ করে, ঠিক সেভাবেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ পরবর্তী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’

সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের কোনো চাপ রয়েছে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে মানসুরা আলম বলেন, রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য আপনারা শুনেছেন; তিনি স্পষ্ট করেছেন যে রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করেন, তবে তা সম্পূর্ণ তার নিজের সিদ্ধান্তেই করবেন। এতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।