সাতক্ষীরার আশাশুনির বুধহাটা ইউনিয়নের বুধহাটা বাজারসংলগ্ন ওয়াপদা (পাউবো) বাঁধের ভাঙন রোধে অবশেষে ৬ হাজার জিও ব্যাগ পৌঁছেছে। তবে পার্শ্ববর্তী নওয়াপাড়া গ্রামের ভয়াবহ ফাটলধরা বাঁধটি এখনও অরক্ষিত থাকায় স্থানীয়দের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। নদীতে জোয়ারের চাপ ও স্রোত বৃদ্ধির আগেই জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বুধহাটা খেয়াঘাট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ৬ হাজার জিও ব্যাগ আনা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধহাটা বাজারসংলগ্ন বাঁধে দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চলতে থাকায় প্রায় সাত হাত বাঁধের মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রবিউল বাশারের ডিও লেটারের ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকা পরিদর্শন করে সাময়িক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, জিও ব্যাগগুলোতে বালু ভর্তি করে ভাঙনকবলিত স্থানে ডাম্পিং করা হবে। এ লক্ষ্যে শ্রমিক নিয়োগের কাজও শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বস্তায় বালু ভরে পাইলিংয়ের ভেতর ফেলা হবে।

ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জিও ব্যাগগুলো নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করেছেন।

অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী নওয়াপাড়া গ্রামের ওয়াপদা বাঁধের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে মূল বাঁধে গভীর ফাটল সৃষ্টি হয়ে ঢাল কয়েক হাত নিচে ধসে পড়েছে। ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য হাফেজ রবিউল বাশার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুণ্ডু এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আব্দুল আলিম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিদর্শনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নওয়াপাড়া বাঁধ রক্ষায় এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে বুধহাটা ও নওয়াপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নদীতে পানির উচ্চতা ও স্রোতের চাপ বৃদ্ধি পেলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি যেকোনো সময় ভেঙে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে। তাই সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতে নওয়াপাড়া বাঁধ রক্ষায় অবিলম্বে জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কাজ শুরুর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর পাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়। যেসব জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে, সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সঠিক নিয়মে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।