রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে চলমান গুঞ্জনের মুখে রহস্যময় ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে ‘কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা’ বিষয়ক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে অথবা স্বাস্থ্যগত বা যেকোনো কারণে চাইলে তাঁর সে অপশন আছে; কিন্তু আমরা তো জানি না।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ আছে কি না জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, ‘সরকারের কোনো পদক্ষেপ নাই এখানে।’ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও তাঁর পদত্যাগ নিয়ে গণমাধ্যমে আসা খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে তো আর কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় দেখছেন যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ইত্যাদি। আমিও শুনছি।’
রাষ্ট্রপতি কি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা ওনাকে জিজ্ঞেস করতে হবে।’ এছাড়া রাষ্ট্রপতি লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘না, উনি চিকিৎসার্থে কিছু দিন আগে বিদেশে গিয়েছিলেন। তো চিকিৎসা তো নিতেই পারে অসুস্থ হলে।’ ফোনালাপের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সেটা আমি জানি না। আমরা শুনি নাই।’
শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে পদত্যাগের বিষয়ে মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘না, এটা সরকারকে জানানোর কথা না। যদি মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত বা যেকোনো কারণে পদত্যাগ করতে চান, সেই অপশন তো ওনার আছেই। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয় নাই। আমিও এগুলো পত্রিকায় শুনছি (দেখছি)। আর তিনি যদি পদত্যাগ করতে চান সাংবিধানিকভাবে, সেটা মাননীয় স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র দিতে হয়। এটুকু জানি। এর বাইরে কিছু জানি না।’
তবে রহস্যের চূড়ান্ত পর্যায় আসে বিকেলে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, ‘শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।’
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির বিদেশ সফর এবং সেখান থেকে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, ‘এ ব্যাপারে আমরা কোনো ডেফিনিট (সুনির্দিষ্ট) খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পায়নি। যদি সেটা সত্যি হয়ে থাকে, তবে সেটা তদন্ত করবে সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পালাবদলের সময় তিনি দায়িত্ব পালন করেন। যদিও ছাত্রনেতারা তাঁর অপসারণ চেয়েছিলেন, তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। বুধবার রাতে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন এবং এ বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।