জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ে এবং তাঁর বহিষ্কার নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক। তাঁর দাবি, এক তরুণীর আবদারের মুখে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি ‘অসামাজিক’ হওয়ায় দল তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিজ নির্বাচনী এলাকায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন আব্দুল খালেক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিওতে এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও এক তরুণীর ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। বিতর্কের মুখে গাজী নজরুল ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে নির্বাচনী এলাকায় ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এক জরুরি সভায় তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গাজী নজরুল ইসলামের বড় স্ত্রীসহ সবার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে আব্দুল খালেক বলেন, ‘মেয়েটার আবদার, সে অন্য জায়গায় বিয়ে করবে না। জানায় যত দিন বাঁচবে তত দিন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সেবা করে যেতে চায়। মেয়েটির এমন দাবির মুখে তাঁর মা–বাবা বাধ্য হয়ে তাঁদের বাড়িতে পরিবারে বিয়ের ব্যবস্থা করেছে।’

বিয়ের ধরন নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এ কাজটা হয়েছে অসামাজিক। অনৈতিক না, অসামাজিক। এ অসামাজিক কাজের কারণে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এমপি সাহেবকে (গাজী নজরুল ইসলাম) সংগঠন থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর এমপি পদও বাতিল হয়ে যাবে।’

সাতক্ষীরা সদরের গোদাঘাটা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা মনিরুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আব্দুল খালেক দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী নৈতিকতার প্রশ্নে অত্যন্ত কঠোর। তিনি বলেন, ‘আজকে এটা আমরা আমাদের শ্যামনগরের জনগণকে জানিয়ে দিয়েছি, তিনি (গাজী নজরুল ইসলাম) যে পর্যায়ে ভুল করেছেন, এই পর্যায়ের ব্যক্তির এই ভুল করা সম্ভব না। অন্য একজন ব্যক্তি হলে হয়তো ভুল মনে করতাম। মসজিদের একজন ইমাম ও একজন সাধারণ ব্যক্তি একই ভুল করলেন; ইমাম সাহেব ও একজন বাইরের লোক দুজনের ভুল কি একই রকম? কিন্তু ইমাম সাহেব করার কারণে ভুলের মাত্রাটা বেশি।’

তবে শুক্রবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে সাংবাদিকদের পাঠানো এক বিবৃতিতে আব্দুল খালেক দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানের বক্তব্যের একটি অংশ খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে প্রকৃত অর্থ বিকৃত হয়েছে এবং তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে যে বিষয়টি নিয়ে আমি বক্তব্য দিয়েছি, সেখানে আমি কোনো ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করিনি। বরং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই নারী নিজে কী বলেছিলেন, সেটিই আমি তুলে ধরেছি। ওই নারী বলেছিলেন, তিনি গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে থাকতে চান এবং সারা জীবন তাঁর সেবা করে যেতে চান। আমি বক্তব্যে শুধু ওই নারীর নিজের বক্তব্য ও অবস্থানের বিষয়টি উল্লেখ করেছি।’