নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি বাড়ির সুয়ারেজ ট্যাংকের বালু ও পানিতে আটকা পড়া এক রাজমিস্ত্রিকে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে ট্যাংকের চারপাশের মাটি কেটে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরেছেন।

গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কুকুরমারা এলাকার একটি ট্যাংকে আটকা পড়েন ওই রাজমিস্ত্রি। আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

উদ্ধার হওয়া রাজমিস্ত্রি সোহরাব হোসেন (৪০) নারায়ণপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে। বেঁচে ফেরার অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি আজ দুপুরে বলেন, ‘বালু-পানিতে ১২ ঘণ্টা আটকে থাকার সময়টা যে কেমন ছিল, বলে বুঝাতে পারব না। বেঁচে ফিরেছি, আল্লাহর রহমত। এখনো ঘোরের মধ্যে আছি, তবে শরীর সুস্থ আছে।’

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল থেকে চার শ্রমিকের সাথে এক ব্যক্তির বাড়িতে সুয়ারেজ ট্যাংক নির্মাণের কাজ করছিলেন সোহরাব। বিকেল পর্যন্ত ৯টি সিমেন্টের রিং স্ল্যাব বসানোর পর ট্যাংকে পানি জমে যায়। পানি সরানোর জন্য তিনি প্রায় ১৪ ফুট গভীরে নামলে বালু-পানিতে তাঁর পা আটকে যায়। অনেক চেষ্টা করেও তিনি ওপরে উঠতে পারছিলেন না।

বাড়ির মালিক হারুন মিয়া বলেন, ‘বালু-পানিতে পা আটকে যাওয়ার এমন ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের এলাকায়ও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে শুনিনি।’

শুরুতে সহকর্মীরা বিষয়টি দুষ্টুমি মনে করলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় তিন শ্রমিক তাঁকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। এরপর স্থানীয় লোকজন চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেলাব ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রথমে মই ব্যবহার করে এবং পরে একে একে ৯টি রিং সরিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়।

উদ্ধার অভিযানে উপস্থিত বেলাব ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মনজুরুল কাদির জানান, এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন তিনি আগে কখনো হননি। তিনি বলেন, সব কটি রিং স্ল্যাব এক এক করে সরিয়েও ওই রাজমিস্ত্রিকে উদ্ধার করা যাচ্ছিল না। সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে এক্সক্যাভেটর এনে চারপাশের মাটি কাটা হয়। এরপরই তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধারের পর সোহরাবকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দা তানজিনা আফরিন জানান, চিকিৎসকেরা তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখে ভর্তি থাকার পরামর্শ দিলেও তিনি সুস্থ বোধ করায় আজ দুপুরে তাঁর অনুরোধে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আমান উল্লাহ বলেন, বাড়িটি নদীর তীরে হওয়ায় মাটির নিচে শুধু বালু ছিল। সর্বশেষ রিং স্ল্যাবের নিচে বালু সরে গিয়ে ওই ব্যক্তির পা আটকে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে বালু ও পানির চাপে তিনি আর পা তুলতে পারছিলেন না।