গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক প্রশস্ত করতে ১২ থেকে ১৫টি শতবর্ষী কড়ই ও মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে কলের বাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের অংশ হিসেবে এসব গাছ কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এত পুরোনো ও বিশালাকৃতির গাছ কেটে ফেলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী, হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কের পাশে থাকা বেশ কয়েকটি বড় গাছ এরই মধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের পুরোনো কড়ই ও মেহগনি গাছও রয়েছে। গাছ কাটার পর সড়কের পাশে পড়ে রয়েছে বিশালাকৃতির গুঁড়ি ও ডালপালা। তবে সেখানে এখনো একটি শতবর্ষী কড়ই গাছ অবশিষ্ট রয়েছে। একসময় এসব বড় গাছ হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ ছিল। গাছগুলো কেটে ফেলায় জায়গাটি এখন ফাঁকা হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতালের সামনে থাকা এসব কড়ই ও মেহগনি গাছের বয়স প্রায় শত বছর বা তারও বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে গাছগুলো পথচারী, রোগী ও তাদের স্বজনদের ছায়া দিয়ে আসছিল। হাসপাতালের মতো জনবহুল এলাকায় এমন পুরোনো গাছ কেটে ফেলা ঠিক হয়নি। সড়ক প্রশস্ত করার প্রয়োজন থাকলে গাছগুলো রক্ষা করেই বিকল্প পরিকল্পনা করা যেত। এই গাছগুলো কেবল গাছই ছিল না, হাসপাতালের পরিবেশ ও সৌন্দর্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতাল থেকে কলের বাজার পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত করা হবে। সড়ক প্রশস্তকরণ ও নির্মাণকাজের জন্য গাছগুলো নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের প্রয়োজনেই সরকারি নিয়ম মেনে গাছগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
হাসপাতালের সামনের দোকানদার নুর মোহাম্মদ বলেন, এখানে ১০ বছর ধরে দোকান করছি। হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনেরা গাছগুলোর ছায়ায় এসে বসতেন। অন্তত ১৫টি গাছ কাটা হয়েছে, যেগুলোর বয়স ১০০ বছরেরও বেশি। গাছ তো আমাদের অক্সিজেন দেয়, অথচ সব কেটে ফেলা হলো! গাছ না কেটে বিকল্প রাস্তা বের করলে ভালো হতো। বিষয়টিতে সবাই আফসোস করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব বলেন, শতবর্ষী গাছগুলো কেটে ফেলার ক্ষতি কোনোভাবেই সহজে পূরণ হওয়ার নয়। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। সড়ক প্রশস্তকরণের প্রয়োজন থাকলেও এসব গাছ রক্ষা করে বিকল্প কোনো সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো।
হাসপাতালে আসা একজন রোগীর স্বজন তোরাব আলী বলেন, গাছগুলো কাটার আগেই হাসপাতাল ও সড়কের আশপাশে নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। বর্তমানে কোনো হাসপাতালের সামনে এমন গাছ দেখাই যায় না, অথচ সেখানে উল্টো গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শামছুর রহমান মাহমুদ বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য আমরা জমি অধিগ্রহণ করেছি। আমরা সরাসরি গাছ কাটিনি; জমি অধিগ্রহণের পর গাছ বিক্রির টেন্ডার (দরপত্র) দেওয়া হয়েছিল। যারা টেন্ডার পেয়েছেন, তারাই গাছগুলো কেটেছেন।