ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পর দেশে অনেক শাসন ও রক্তপাত দেখা গেলেও মানুষ কাঙ্ক্ষিত শান্তি ও অর্থনৈতিক মুক্তি পায়নি। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরেও মানুষের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি। এখন জনতাকেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই লক্ষ্য অর্জনে সর্বাত্মক সহায়তা করবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ফেনী শহরের ‘এম্বিয়েন্স রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনভেনশন হলে’ আয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, মানুষের আত্মা শুদ্ধ না হলে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজে কাঙ্ক্ষিত শান্তি আসবে না। কেবল আইন-আদালত ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখা যায় না; প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য মানুষের অন্তর শুদ্ধ করা প্রয়োজন। মানুষ যখন মহান আল্লাহকে ভয় করে, তখনই সে নিজে থেকে পাপাচার থেকে দূরে থাকে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও রাজনীতির এক সমন্বিত প্রয়াস।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি—দুটিই তৈরি হয়েছিল জনরায়কে অবজ্ঞা করার কারণে। ইতিহাস সাক্ষী, জনরায় উপেক্ষা করার পরিণতি কখনো ভালো হয় না। তাই কোনো আইনি মারপ্যাঁচ বা রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা না করে গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দ্রুত তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।
ফেনী জেলা সভাপতি মাওলানা গাজী এনামুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আলহাজ মাওলানা একরামুল হক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নূরুল করীম আকরাম, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আল্লামা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল করীম, কুয়েত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শায়খ মাওলানা আবদুল্লাহ আল হারুন ও প্রচার সম্পাদক শায়খ গোলাম সরোয়ার সিরাজী।
এছাড়াও সম্মেলনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি আগামী মেয়াদের জন্য ফেনী জেলা কমিটি ঘোষণা করেন। নতুন কমিটিতে মাওলানা নুরুল করিমকে সভাপতি এবং মাওলানা একরামুল হককে সেক্রেটারি নির্বাচিত করা হয়।