যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নিজের শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে সাগরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নারী ও তার ১৫ বছর বয়সী কন্যা। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাগরপাড়ে ঘুরতে গিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মা-মেয়ের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোরে যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন—ডা. মনসুর রহমানের স্ত্রী এবং তাদের ১৫ বছরের কিশোরী কন্যা। নিহত ওই নারী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সিলেটের ছাতক উপজেলার অধিবাসী মুজিবুর রহমানের কন্যা। আর ডা. মনসুর রহমান সিলেটের বিশিষ্ট বিএনপি নেতা শেখ মখন মিয়ার সন্তান।
পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের এসেক্সের কলচেস্টারে অবস্থিত ‘ওয়েস্ট মার্সি’ সমুদ্রসৈকতে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে সবাই আনন্দমুখর সময় কাটাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ সাগরের জোয়ার এসে পরিবারের ছোট শিশুকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। শিশুটিকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দেন ওই নারী ও তার ১৫ বছর বয়সী বড় কন্যা। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও উত্তাল জোয়ারের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যান তারা দুজনই।
নিহত নারীর বাবা মুজিবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পরিবারের অন্য সদস্যদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে (হেলিকপ্টার) দ্রুত লন্ডনের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ পাওয়ার পরপরই ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করে যুক্তরাজ্যের জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। এসেক্স পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, কলচেস্টারের ওয়েস্ট মার্সি এলাকায় একটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক দল দায়িত্ব পালন করছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সাধারণ জনগণকে আপাতত ‘সিভিউ অ্যাভিনিউ’ এবং এর সংলগ্ন সৈকত এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে এইচএম কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টার ও রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই)-এর একাধিক বিশেষ ইনশোর লাইফবোট সাগরে টানা উদ্ধার তৎপরতা চালায়।