সিলেটে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের (৩০) ওপর আবারও আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় ক্ষুব্ধ লোকজন জাকিরকে মারধর করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টার দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে জাকিরকে আদালত চত্বরে আনা হয়। সেখানে আগে থেকেই ওই শিশুর স্বজন ও প্রতিবেশীরা অবস্থান করছিলেন। প্রিজন ভ্যান থেকে আদালত ভবনের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের হেফাজতেই জাকিরের ওপর হামলা চালানো হয়।

এর আগে গত ২৩ জুনও আদালত প্রাঙ্গণে জাকির হোসেন হামলার শিকার হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে ওই শিশুর এক স্বজন বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন। এতে ন্যায়বিচার নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’

আদালত চত্বরে বারবার একই আসামির ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে একে হামলাচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "জাকিরকে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই আদালতে আনা-নেওয়া করা হয়। আজ তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে পুলিশের নিরাপত্তার কারণে সেটি সফল হয়নি। ওই সময় হামলার চেষ্টা প্রতিহত করতে গিয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।"

মামলার নথি ও পুলিশি তথ্যানুযায়ী, সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা ওই শিশুটি গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর ৮ মে ভোরে স্থানীয় একটি ডোবার পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের পর ১১ মে রাতে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, জাকির পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

গত ১২ মে এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "৬ মে সকালে শিশুটিকে সিগারেট আনতে একটি দোকানে পাঠানো হয়। সিগারেট নিয়ে ফিরে এলে জাকির শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নেন। তখন তাঁর স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। জিজ্ঞাসাবাদে জাকির ধর্ষণচেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন।"

পুলিশের ভাষ্যমতে, ধর্ষণচেষ্টার পর শিশুটি সংজ্ঞা হারালে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহটি প্রথমে একটি স্যুটকেসে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে গভীর রাতে ডোবার পাশে ফেলে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি।