পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেট জেলার প্রধান দুটি নদী—সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার তিনটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল তিনটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। অথচ গত বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছিল। অন্যদিকে, কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ (জকিগঞ্জ) পয়েন্টে বুধবারই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। আজ সেখানে পানি কিছুটা কমলেও এখনও বিপৎসীমাতেই প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে সিলেট শহর পয়েন্টে সুরমার পানি এখনও বিপৎসীমার নিচেই রয়েছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার হলেও বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত পানি সমতল ছিল ১০ দশমিক ০৭ মিটার—অর্থাৎ বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচে।

এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে ৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি এখনও নিরাপদ সীমার মধ্যে রয়েছে। সারি-গোয়াইন, পিয়াইন, লোভা নদী এবং ধলাই নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে পানি স্বাভাবিক রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।