বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নৌবাহিনীর বিদায়ী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়, "অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে অভিনন্দন জানান। নৌবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধানও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।"

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

প্রায় চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।

জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

পেশাগত জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) এবং জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন।