তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন সচল রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ নিশ্চিত করতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএ নেতারা। আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে এই দাবি উত্থাপন করেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধিদল।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি সেলিম রহমান, ইনামুল হক খান, মো. রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান এবং মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বিজিএমইএ প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে বিজিএমইএ নেতারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ ব্যবস্থা দ্রুত চালুর অনুরোধ জানান তাঁরা।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে তৈরি পোশাক খাতের সুরক্ষা, সচল কারখানাগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ এবং নীতিগত সহায়তা সহজীকরণের কথা বলেন। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে সরকারের ধারাবাহিক নীতিসহায়তার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থাকার লক্ষ্যে সমন্বিত শুল্ক-কর, আর্থিক ও রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানান বিজিএমইএ নেতারা।
এছাড়া বন্ড কর্তৃপক্ষের ঘন ঘন নিরীক্ষার জটিলতা দূর করতে শীর্ষস্থানীয় পেশাদার অডিট ফার্মগুলোর মাধ্যমে বার্ষিক কাস্টমস অডিট সম্পন্ন করার একটি স্থায়ী নীতিমালার প্রস্তাব করেন তাঁরা। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং ধারণক্ষমতার স্বল্পতায় লিড টাইম বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘অস্থায়ী কার্গো শেড’ নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
শ্রমিকদের মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গাজীপুরে শ্রমিক হাসপাতালের জন্য জমি বরাদ্দ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) পরিপালন সহজ করা এবং বেনাপোল বন্দরে সেবা সহজ করার দাবিও উত্থাপন করেন বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল।