উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা রোধ এবং ব্যয় কমাতে চার ধরনের বড় ধরনের সংস্কারে যাচ্ছে সরকার। এর আওতায় প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, ডিজিটাল নজরদারি জোরদার, রেট শিডিউল সংশোধন এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।
বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এসব তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু এবং বিভিন্ন সংস্থাকে একই প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একনেকের অনুমোদনের পর অনেক ক্ষেত্রে কার্যাদেশ পেতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়, যার ফলে মাঠপর্যায়ের কাজ পিছিয়ে যায়, ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং এডিপি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন, বিয়োজন বা পুনর্বিন্যাস করা হবে। পিডি নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, "পিডি নিয়োগে নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে। এতে স্বচ্ছ নিয়োগ, যোগ্যতাভিত্তিক নির্বাচন, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা থাকবে।"
বৈঠকে খুলনার রূপসা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে বিলম্বের ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়বে, সরকারি জবাবদিহি শক্তিশালী হবে এবং সরকারি বিনিয়োগ আরও কার্যকর হবে।
একনেক সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (প্রথম সংশোধন), বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন), ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধন), সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন), নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প এবং দেশের মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প। তবে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙনরোধ প্রকল্পটি প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য পর্যবেক্ষণে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সংস্কারের চারটি দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত উন্নয়নকাঠামো চূড়ান্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ চিহ্নিত করে তা দূর করার সুপারিশ প্রণয়ন করা হচ্ছে, যার বিষয়ে আইএমইডি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। চতুর্থত, পরিকল্পনা বিভাগ, আইএমইডি, বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষ (বিপিপিএ), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে।