রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঁচটি নীতিসহায়তা চেয়েছে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিটিএমএর এক প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, বর্তমান সহসভাপতি মো. আবুল কালাম ও মো. শামীম ইসলাম, পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, সাবেক পরিচালক বাদশা মিয়া, রাজীব হায়দার, আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. হেলাল মিয়া এবং মুন্নু ফেব্রিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামিউল ইসলাম। বিটিএমএ আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের কথা জানিয়েছে।
বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা জানান, গ্যাস ও বিদ্যুতের সীমিত সরবরাহ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার, চলতি মূলধনের সংকট, টাকার অবমূল্যায়ন এবং সীমিত ব্যাংক অর্থায়নের কারণে শিল্প খাতটি বর্তমানে চরম সংকটের মুখে। এর ফলে অধিকাংশ কারখানা তাদের মোট সক্ষমতার মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। ২০১৯ সাল থেকে ইতোমধ্যে ২৪৪টি টেক্সটাইল মিল এবং ৪৫০টির বেশি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।
প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে বিটিএমএ নেতারা উল্লেখ করেন, ভারত সরকার কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ে রপ্তানি প্রণোদনা, মূলধনি ভর্তুকি, স্বল্প সুদে অর্থায়ন, অবকাঠামোগত সহায়তা, বিদ্যুৎ ও করের সুবিধা এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যাপক নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্প বিশেষ সুবিধা অর্জন করেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ২৮ হাজার ৬৫২ কোটি টাকার কটন সুতা আমদানি করা হয়েছে, যা দেশে উৎপাদন করা গেলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো বলে তারা জানান।
এই পরিস্থিতি উত্তরণে বিটিএমএ নেতারা প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের জন্য সমন্বিত শুল্ক-কর, আর্থিক ও রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ জানান। এছাড়া তারা আরও কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে—রপ্তানিমুখী শিল্পের বিদ্যমান সব ঋণের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদহার নির্ধারণ; সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়নে সহজ প্রক্রিয়া; প্রকল্পভিত্তিক সিআইবি মূল্যায়ন এবং বন্ধ বা আংশিক বন্ধ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিআইবি শিথিল করা; প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প সুদে অর্থায়ন; এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি 'ফাস্ট ট্র্যাক সার্ভিস মেকানিজম' চালু করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং ও কাস্টমস সেবার দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা।
বিটিএমএ নেতাদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হলে বস্ত্র খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে বস্ত্রশিল্পের অবদানের প্রশংসা করেছেন এবং এই খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বস্ত্রশিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে প্রধানমন্ত্রী একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।