খুলনার পাইকগাছায় পিকনিকের জন্য কেনা গরুর মাংস রান্না করতে গিয়ে অস্বাভাবিকভাবে রং পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। রান্নার জন্য কড়াইতে দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাংসের রং গাঢ় সবুজ হয়ে যায় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাংসের নমুনা জব্দ করেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে পাইকগাছা পৌরসভার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা পিকনিকের আয়োজন করেন। এ উপলক্ষে তারা পাইকগাছা মাংস বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল কসাইয়ের দোকান থেকে ফ্রিজে সংরক্ষিত ২ কেজি ৯০০ গ্রাম গরুর মাংস কেনেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাংস ধুয়ে রান্নার জন্য কড়াইতে দেওয়ার পর ধোয়ার পানি কালচে হয়ে যায়। পরে কয়েক মিনিটের মধ্যে মাংসের রং গাঢ় সবুজে পরিবর্তিত হতে থাকে বলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান। এ দৃশ্য দেখে রান্নার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাংসের নমুনা আলামত হিসেবে জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এর আগেও বাসি বা নিম্নমানের মাংস বিক্রি এবং ওজনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। তারা বাজারে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকির দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইল বলেন, আমার বিক্রি করা মাংসে কোনো সমস্যা ছিল না। রান্নার সঙ্গে জড়িত কারও সঙ্গে শত্রুতার জেরে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু মিশিয়ে থাকতে পারে। অন্যথায় মাংসের এমন পরিবর্তন হওয়ার কথা নয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধার করা মাংসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে কী কারণে মাংসের রং পরিবর্তন হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।