নেত্রকোনার কলমাকান্দায় অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে এক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত তিনজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গত সোমবার তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। বুধবার বিকেলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চাকরিচ্যুত ওই তিন ব্যক্তি হলেন— ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া ও আরিফ মিয়া এবং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার ওরফে হীরা।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলমাকান্দার রামনাথপুর পাগলা এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে এক রোহিঙ্গাকে টাকার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দেওয়া হয়। এছাড়া নেত্রকোনা সদর এলাকার ঠিকানা দেখিয়ে আরও এক রোহিঙ্গাকে আইডি তৈরি করে দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত ওই তিন কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “রোহিঙ্গা নাগরিককে নাগরিকত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর নির্বাচন কমিশন থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত ঢাকায় তিনজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।” তিনি আরও জানান, ওই তিনজন স্থায়ী কর্মকর্তা নন, বরং কোম্পানির মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ে কাজ করছিলেন। জেলায় এ সংক্রান্ত অন্যান্য অভিযোগের তদন্তও বর্তমানে চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া গত সোমবার রাতে ইবাদ হোসেন নামের এক সাংবাদিককে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইবাদ হোসেন দৈনিক কালের কণ্ঠের নেত্রকোনা প্রতিনিধি। এই ঘটনায় তিনি গতকাল রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ইবাদ হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাঞ্চন মিয়া সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে মুঠোফোনে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এ নিয়ে আমি শঙ্কায় আছি। আশা করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত কাঞ্চন মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”