রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ পিপলস্ লীগকে নিবন্ধন প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার দলটির করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই রায় প্রদান করেন। আদালতের আদেশে আগামী তিন মাসের মধ্যে দলটিকে নিবন্ধন দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের বর্তমান তালিকায় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬০টি। এই রায়ের পর নিবন্ধন পেলে বাংলাদেশ পিপলস্ লীগ হবে দেশের ৬১তম নিবন্ধিত দল। উল্লেখ্য, নিবন্ধন না থাকলেও রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক।
রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য পিপলস্ লীগ নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানালেও গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ইসি তা নামঞ্জুর করে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়ার কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দলটির মহাসচিব আইনজীবী সৈয়দ মাহবুব হোসেন গত বছর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানির পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর আদালত রুল জারি করেন এবং আজ সেই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেওয়া হয়।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন দলটির চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গরীব নেওয়াজ মোহাম্মদ ও আইনজীবী সৈয়দ মাহবুব হোসেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম মিয়া।
দলটির মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন জানান, বাংলাদেশ পিপলস্ লীগ ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “তখন দল হিসেবে মার্শাল ল রেগুলেশনের মাধ্যমে নিবন্ধন দেওয়া হয়। তবে ২০০৮ সালে নতুন বিধান হয়। এর ধারাবাহিকতায় দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশন আবেদন করে পিপলস্ লীগ।”
মাহবুব হোসেন আরও দাবি করেন, নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও ২০-দলীয় জোটের শরিক হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ আমলে পিপলস্ লীগকে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে দল হিসেবে নিবন্ধনের পেতে রিটটি করা হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) করে রায় দিয়েছেন আদালত। পিপলস্ লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”