জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার মুখে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দূরে থাকলেও, তাদের কিছু অনুসারী দেশে থেকে দলটিকে পুনরায় প্রাসঙ্গিক করে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের জয়’ শিরোনামে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, "একাত্তরে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে এবং পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের দালাল ও প্রেতাত্মা রাজাকার, আলবদররা আবার সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেয়। তালিকা অনুযায়ী তাদের বড় অংশ ছিল আওয়ামী লীগে। এবারও ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা এ দেশে রয়ে গেছে। তারা ইনিয়ে–বিনিয়ে ফ্যাসিবাদকে প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।"
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগের শাসনের অবসান ঘটে এবং দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ পর্যায়ের অধিকাংশ নেতা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।
আন্দোলনে আলেম সমাজের ভূমিকা প্রসঙ্গে মজিবুর রহমান বলেন, "সাধারণত আলেম সমাজ সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও জাতির সংকটময় মুহূর্তে তাঁরা বারবার নেতৃত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারাও দলে দলে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, পরে কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হন। এরপর নারী-পুরুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নামলে গণ–অভ্যুত্থান সফল হয়। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং আলেম-ওলামারা জাতির শ্রেষ্ঠ বীর।"
জুলাই সনদের আলোকে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ সম্ভব নয়।"
অনুষ্ঠানে খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী মন্তব্য করেন যে, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং দেশপ্রেমী সব শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ওলামা সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান বলেন, "২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকেই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল।"
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আবদুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ এবং মো. আলিফ প্রমুখ।