অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন।

জাফর আহমদ টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সহসভাপতি। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন জাফর আহমদ।

রায়ের বিষয়টি দর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলায় আদালত টেকনাফের সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমেদকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। তাঁকে একই সঙ্গে আট কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

দুদক জানায়, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল দুদক চট্টগ্রামের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে জাফরের বিরুদ্ধে নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন। মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ১৫ মে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, জাফর আহমদ জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকার মোট সম্পদের তথ্য পায় দুদক। এর মধ্যে পারিবারিক ও অন্যান্য খরচ বাবদ ব্যয় করেন ৫৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। দুদক মোট গ্রহণযোগ্য আয় পায় ২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার টাকার। এ সম্পদের মধ্যে টেকনাফে জমি ও ব্যাংক হিসাবের টাকা রয়েছে জাফরের।

চলতি বছরের ৫ মে আসামি জাফরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আদালত মামলার বিচার শুরু করেন। ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত রায় দিয়েছেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সাহেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি জাফর আহমদ কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আদালতের নির্দেশে পরে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।