জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা ও মারামারির ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি। এই ঘটনায় ফেনী জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেনকে সংগঠন থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার এনসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আকবর হোসেনের সাময়িক অব্যাহতির কথা জানানো হয়। এর আগে গত রোববার আরেকটি চিঠির মাধ্যমে সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিনকে শোকজ করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই ফেনীর সোনাগাজীতে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপির একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। কর্মসূচির সমাপ্তির পর আরও কয়েক দফায় এই ধরনের বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি হয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে আকবর হোসেনকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আকবর হোসেন বলেন, ‘আমাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমি এই ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। যারা প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।’
অন্যদিকে, একই ঘটনায় গত রোববার জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিনকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।
এই বিষয়ে সুজা উদ্দিন বলেন, ‘যেহেতু আমি ওই কর্মসূচির মূল আয়োজক ছিলাম এবং সেখানে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, শৃঙ্খলা রক্ষায় ত্রুটি থাকার কারণেই হয়তো কেন্দ্র থেকে আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যথাসময়ের মধ্যে আমি লিখিত জবাব দেব।’