রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ট্রমা সেন্টার এবং ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবে কর্মরত-কর্মচারীদের সাত মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় জনবল রাজস্বকরণ ও বকেয়া বেতনের দাবিতে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

আজ সকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ দাবিতে আন্দোলনকারীরা ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। বিকেল চারটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় কর্মবিরতি অব্যাহত ছিল।

ওসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সাল থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, সনদপত্র প্রদান ছাড়াও ওসিসিতে চিকিৎসাধীন ভিকটিমদের বিনা পয়সায় ট্রমা সেন্টারে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট দিয়ে মনোসামজিক কাউন্সেলিং ও ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীদের ডিএনএ টেস্ট বাইরে করাতে ১৫ হাজার টাকার মতো লাগে। ওসিসি বন্ধ হলে ভুক্তভোগী মেডিক্যাল সার্টিফিকেট পাবেন না। ফরেনসিক টেস্ট বাইরে করতে হবে। ভুক্তভোগীরা বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা, ট্রমা কাউন্সেলিং এবং ডিএনএ টেস্টের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

রাজশাহীর ওসিসিতে বর্তমানে ২৩ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত আছেন। গত সাত মাস এই প্রকল্পের কর্মরত ব্যক্তিদের বেতন এবং অফিস পরিচালনার জন্য কোনো আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। কর্মীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ভুক্তভোগী কর্মীরা জানান, ‘মাল্টিসেক্টোরাল প্রোগ্রাম অন ভায়োলেন্স এগেইনস্ট ওমেন’ প্রকল্পটি চলমান অবস্থায় ২০১৬ সালে ৯ মাসের জন্য বেতন বন্ধ ছিল। পরে তা আর প্রকল্পের কর্মরত ব্যক্তিদের পরিশোধ করা হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে চিঠি দিয়ে প্রকল্পের জনবলকে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ওসিসিকে বর্তমানে আউটসোর্সিং খাতে দিয়ে দিয়েছে সরকার। ৬টি কোম্পানি দরপত্র পেয়েছিল এবং তাদের অধীন গত ১০ জুন বাংলাদেশের সব কর্মী পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে ১৫ দিন পরেই পরীক্ষাটি বাতিল করে দেওয়া হয়।

এ সম্পর্কে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ওসিসিতে চিকিৎসাধীন রোগীগুলোর জন্য তারা কী ব্যাকআপের ব্যবস্থা করতে পারেন, তা নিয়েই হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে বসেছেন। আর কর্মচারীদের বেতনের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।