নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন কিংবা যৌতুক আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অযথা হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই বিষয়ে নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ করে এই রিট করা হয়।
বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের আজ মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ১৪৫ নম্বর ক্রমিকে আবেদনটি রাখা হয়েছে।
গত মে মাসে বাটারফ্লাই হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. খলিলুর রহমান এই রিটটি দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান বলেন, ‘মূলত আমরা পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন চাই। কারণ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইন আছে। অথচ এ ক্ষেত্রে পুরুষদের প্রতিকারের জন্য আইন নেই। সংবিধানে সমঅধিকারের কথা বলা আছে। সে ক্ষেত্রে পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন না থাকায় তারা (পুরুষ) বঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাই একটি ব্যালেন্স (ভারসাম্যমূলক) আইন প্রণয়ন চাচ্ছি। পুরুষদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় নির্যাতিত পুরুষেরা বিচার ও প্রতিকার পাচ্ছে না। একটি ব্যালেন্স আইন করার জন্য পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন চাই। সে জন্যই মূলত জনস্বার্থে রিটটি করা হয়েছে।’
রিটের প্রার্থনায় বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও যৌতুক আইনের অপব্যবহার করে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে বাঁচাতে ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সেই বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরুষদের সুরক্ষা নিশ্চিতে নতুন এই আইনটি প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
আবেদনে আরও চাওয়া হয়েছে, রুল জারি হলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ‘অপব্যবহারের’ মাধ্যমে পুরুষদের হয়রানি থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হোক।
এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব এবং আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে।