এই বিশ্বকাপে মাঠের ভেতরে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, লামিনে ইয়ামালরা। কিন্তু মাঠের বাইরে সবার নজর ছিল বেকহামের দিকে। থাকবে নাই–বা কেন? কারণ, বিশ্বকাপের যেদিকে তাকানো যেত, সেখানেই কোনো না কোনোভাবে বেকহাম আছেন। মার্কিনদের বিশ্বকাপে বেকহামের বিচরণ কেন?

এবারের বিশ্বকাপে বেকহাম ছিলেন অ্যাডিডাসের বিজ্ঞাপনে। ছিলেন ফিফার আনুষ্ঠানিক অ্যাম্বাসেডর। সেই সঙ্গে ম্যাকডোনাল্ড, এমএলএস থেকে শুরু করে হোম ডিপো, ব্যাংক অব আমেরিকার বিজ্ঞাপনের মুখ ছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের প্রতিটি ম্যাচে তো বেকহাম ছিলেনই। একত্রে গলা মিলিয়ে গেয়েছেন ‘ওয়ান্ডারওয়াল’, ‘হেই জুড’। এমনকি ফাইনাল ম্যাচেও বেকহামকে দেখা টম ক্রুজের সঙ্গে। এবারের বিশ্বকাপে বেকহামের এত জনপ্রিয়তার পেছনে কারণ কী?

.

কারণ খুঁজে পেতে ফিরে যেতে হবে ২০০৭ সালে। ডেভিড বেকহাম তখন খেলছেন রিয়াল মাদ্রিদে। সেখান থেকে ইউরোপের হেভিওয়েট দলদের না করে দিয়ে বেকহাম যোগ দিলেন এলএ গ্যালাক্সিতে। এমন লিগ, যার নামই শোনেনি কেউ কখনো। সেই লিগের এক অপরিচিত দলে যোগ দিলেন বেকহাম।

এক বছরের মধ্যেই বদলে গেল পুরো লিগের চিত্র। বেকহামের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে রাতারাতি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল মেজর লিগ সকার। ইউরোপের বাইরে কোন লিগের এমন জনপ্রিয়তা পাওয়া সম্ভব, সেটা করে দেখিয়েছিলেন বেকহাম। বেশির ভাগ আমেরিকানের ফুটবলে হাতেখড়ি হয়েছিল বেকহামের হাত ধরে।

.

এমএলএসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান কোর্টমানশ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বেকহামকে, ‘আমি সব সময় বলি, বেকহাম এমএলএসের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছেন—একবার নয়, দুইবার। প্রথমবার যখন সে এমএলএসে যোগ দিয়েছিল, দ্বিতীয়বার যখন সে এমএলএসে দল কিনেছিল।’

২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্টার মায়ামি দলটি কিনে নেন ডেভিড বেকহাম। সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় দলের ভাগ্যও। নিজের স্টারপাওয়ার ব্যবহার করে একের পর এক তারকা ভেড়াতে থাকেন দলে। ২০২৩ সালে বেকহামের হাত ধরেই আমেরিকায় আসেন লিওনেল মেসি। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাকে দলে ভেড়ানো চাট্টিখানি কথা নয়। ফ্রিতে পাওয়ার পর তার দিকে ব্ল্যাঙ্ক চেক বাড়িয়ে দিয়েছিল অনেকেই। কিন্তু বেকহামের এক ফোন বদলে দিয়েছে সবকিছু।

.‘৮০০ পাসে মৃত্যু’ থেকে ‘স্বপ্নের সমাপ্তি’—মেসিদের বিদায়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম.

গত তিন বছরে বিদেশে যেমন এমএলএসের দর্শক বেড়েছে, তেমনইভাবে আমেরিকানরাও নিচ্ছেন এমএলএসের সাবস্ক্রিপশন। জনপ্রিয়তার দিক থেকে ফুটবল বাকি খেলাগুলোকে ছাড়িয়ে গিয়েছে একে একে, যার শেষ গন্তব্য ছিল বিশ্বকাপ ফুটবল। আর সেটাও সম্পন্ন হলো বেকহামের চোখের সামনে।

.

১৯৯৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের পর থেকেই পড়তির দিকে ফুটবলের জনপ্রিয়তা। মেজর সকার লিগ কাগজে–কলমেই ছিল, প্রভাব বিস্তার করতেই পারত না। বেকহাম এসে সেই দান উল্টে দিয়েছেন। তার চেহারা ফেসভ্যালু মাঠে এনেছে লাখো সমর্থককে। একজন বেকহাম না থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যেত আমেরিকার।

আর সে কারণেই বোধ হয় বেকহামের প্রতি আলাদা কৃতজ্ঞতা আমেরিকায়। কারণ, সেখানে এখনো লাখো মানুষের কাছে বেকহাম মানেই যেন ফুটবল। ফুটবলার হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেসে ভিড়ে বেকহাম বের হয়েছেন কালচারাল আইকন হয়ে। এমএলএসের সঙ্গে যে নামটা জড়িয়ে আছে দুই দশক ধরে, সব জায়গায় তাঁকে দেখা যাওয়াটাই তো স্বাভাবিক।

.ফাইনালের পর রদ্রির ওপর কেন চটেছিলেন ওতামেন্দি