রাজশাহীতে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার কবলে পড়ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের এলাকা। এর ফলে রোগী, তাঁদের স্বজন, চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এলাকাটি কয়েক দফায় উঁচু করা হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসেনি।

সোমবার বিকেলে টানা বৃষ্টির পর হাসপাতালের প্রধান ফটকসংলগ্ন সড়ক ও জরুরি বিভাগের সামনে হাঁটুপানি জমে যায়। নিচু এলাকা হওয়ায় আশপাশের বৃষ্টির পানিও সেখানে এসে জমা হয়, যা সন্ধ্যা সাতটার দিকেও নামেনি। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে প্রবেশ করতে বা বের হতে রোগী ও স্বজনদের কাপড় গুটিয়ে অথবা জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এমনকি জরুরি বিভাগে রোগী আনা-নেওয়ার সময়ও পানি মাড়িয়ে যেতে হয়। এসময় বেশ কয়েকজনকে পানিতে পিছলে পড়ে যেতে দেখা যায়।

রাজশাহী আবহাওয়া কার্যালয়ের তথ্যমতে, সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নগরে ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

হাসপাতালে আসা মো. শাকিল আহমেদ বলেন, “এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের সামনে পানি জমে যায়।” অন্যদিকে রোগী দেখতে আসা মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, “পুরো সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে পৌঁছাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বছরের পর বছর একই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ জানান, হাসপাতালের সামনের সড়কে জলাবদ্ধতার সমস্যাটি নতুন নয়। তিনি বলেন, “হাসপাতালের সামনের সড়কে জলাবদ্ধতার সমস্যা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে অন্তত দুই থেকে তিন দফা সড়ক উঁচু করা হয়েছে। কিন্তু ভারী বৃষ্টির সময় এখনো পানি জমে। হাসপাতালের কিছু নিজস্ব নর্দমা থাকলেও সেগুলো সিটি করপোরেশনের নর্দমা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত। তাই স্থায়ী সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।” তিনি আরও যোগ করেন, “ড্রেনে ময়লা বা পলিথিন জমে থাকলে তা পরিষ্কারের জন্য সিটি করপোরেশনকে জানানো হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের সামনের অংশ আরও উঁচু করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে। রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

উল্লেখ্য, একই বৃষ্টিতে রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর, বাকির মোড়, ডিঙ্গাডোবা ও বহরমপুরসহ বেশ কিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, “হাসপাতালের সামনে ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠে। উচ্ছেদের পরও তারা আবার বসে এবং নর্দমায় ময়লা-আবর্জনা ফেলায় অনেক সময় পানিনিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয়।” তবে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, সাধারণত দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যায় এবং নগরের পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সচল ও পরিষ্কার রাখা হয়েছে।