রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি ট্রাকের ধাক্কায় সুমন্তি চাকমা (৩৫) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা স্কুলশিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর নিহত নারীর পরিবারের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ বিষয়ে আলোচনা করতে একটি বৈঠক আয়োজন করে বিজিবি।

সোমবার দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বাঘাইছড়ির ২৭ বিজিবির মারিশ্যা জোন কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম, বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান, শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চায়ন চাকমা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) সমরেশ চাকমা, শিক্ষক প্রতিনিধি নামতা তালুকদার, সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, ইউপি সদস্য বনবিহারী চাকমা এবং নিহত শিক্ষিকার নিকটাত্মীয় ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বৈঠকে অংশ নেওয়া সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, "বিজিবির ট্রাকের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক। এ দুর্ঘটনায় নিহত নারীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি উঠলে বিজিবির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে নিহত শিক্ষিকার পরিবারকে বিভিন্ন সহায়তা করার ঘোষণা দেওয়া হয়।"

চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা আরও জানান, দুর্ঘটনার দিন বিজিবি নিহত নারীর পরিবারকে এক লাখ টাকা প্রদান করেছে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য আগামী রোববারের মধ্যে আরও চার লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া নিহত শিক্ষিকা সুমন্তি চাকমার আট বছর বয়সী মেয়ে প্রাপ্তি চাকমার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি শিক্ষিকার ভাই এইচএসসি পাস করলে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে তাকে বিজিবিতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে ছয়টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গতিরোধক নির্মাণ করছে বিজিবি।

গত শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় সাজেকের চাম্পাতলী এলাকায় বিজিবির ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী সুমন্তি চাকমার মৃত্যু হয়। তিনি সাজেক ইউনিয়নের ডাব আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। সন্তান প্রসবের জন্য তাঁকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথেই এই দুর্ঘটনায় তিনি ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়।

বৈঠকে বিজিবির জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, "বিজিবি এই পরিবারের পাশে থাকবে এবং শিশুকন্যা প্রান্তির শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।"

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত নারীর পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।"