নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া স্কুলপড়ুয়া এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের ৪৪ ঘণ্টা পর আজ সোমবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়নের মনিপুরা ঘাট থেকে স্থানীয় জেলেদের জালে আটকা পড়ে তার মরদেহ উঠে আসে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে রায়পুরা উপজেলায় পানিতে ডুবে মোট সাতটি শিশুর মৃত্যু হলো।
নিহত কিশোর ইয়াসিন সরকার ওরফে দীপু (১৬), উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের দাইরের পাড় এলাকার মো. হান্নান সরকারের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার মা ও বোনের সঙ্গে মামার বাড়ি মনিপুরা এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিল ইয়াসিন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় চার-পাঁচজন শিশু-কিশোরের সঙ্গে সে মনিপুরা ঘাটে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। তারা নদীর ভেতর ৫০ গজ দূরে শুকনা মৌসুমে পারাপারের কাজে ব্যবহৃত একটি কাঠের সেতুর কাছে যাচ্ছিল। সেই সময় তীব্র স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে তলিয়ে যায় দীপু। সঙ্গে থাকা শিশুরা দ্রুত পাড়ে উঠে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা নৌকা নিয়ে ইয়াসিনকে খোঁজার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে রায়পুরা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং বিকেলে ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা এই অভিযানে যোগ দেন। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এরপর গতকাল রোববার দিনভর পাঁচটি নৌকা নিয়ে আশপাশে তল্লাশি চালিয়েও ব্যর্থ হন স্বজনেরা।
আজ সকালে জেলেদের জালে লাশটি আটকা পড়লে তারা তা পাড়ে তুলে এনে স্বজনদের অবহিত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। খবর পেয়ে রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন নিহতের বাড়িতে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
নিহত কিশোরের মামা আবু সায়েম বলেন, ‘ইয়াসিন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসে নদীতে গোসলে নেমে মারা গেল। তাকে উদ্ধারের জন্য এমন কোনো চেষ্টা নেই করিনি। ঘটনার পর থেকে পাঁচটা নৌকা নিয়ে আমরা নদীতেই ছিলাম। ইয়াসিনের এক ভাই ও এক বোন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছে তার মা-বাবা। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।’
রায়পুরা থানার এসআই মো. জাকির হোসেন জানান, পরিবারের সদস্যরা লাশের কাটাছেঁড়া করতে রাজি নন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।